সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি জমি নিয়ে কামড়া-কামড়ি

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি জায়াগা দখল করে গড়ে তুলা দোকান পাট ভাঙচুর। এক দখলদারকে তাড়িয়ে আরেকজন দখল নিতে ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের। গতকাল শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ।

জানা গেছে, নাসিক ৩ নং ওয়ার্ডের মুক্তিনগর টায়ার মার্কেট এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি জায়গা দখল করে পাকা দোকান পাট গড়ে তুলে কমপক্ষে ৩০ বছর ধরে ভাড়া বাণিজ্য করে আসছেন ফেরদৌস নামে এক ব্যক্তি। জায়গাটি নূরুল ইসলামের বাড়ির সামনে। দোকানপাটের কারণে চলাচলের অসুবিধা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নরুল ইসলাম এই সরকারি জমি দখল মুক্তকরতে নারায়ণগঞ্জ সওজ কর্তৃপক্ষ ও থানায় লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পায়নি। সম্প্রতি নিজেই এলাকার ভাড়াটিয়া লোকদিয়ে গত শুক্রবার সকালে অবৈধভাবে গড়ে তুলা ফেরদৌসের দোকানপাট ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় দখলদারের পক্ষে রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে নূরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, জুলহাস উদ্দিন লিটন, শরীফ ও সেলিমের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতি থানার উপপরিদর্শক কাজল চন্দ্র মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে দখলদার ফেরদৌস সরকারি জমিতে দোকানপাটা নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অন্তত ৩০ বছর ধরে আমি এই জায়গায় দোকানপাট নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছি। সরকারের প্রয়োজনে যেকোন সময় সরকার দোকান উচ্ছেদ করলে আমার কোন আপত্তি নেই। তবে সন্ত্রাসী কায়দায় নূরুল ইসলাম ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর লুটপাট করেছে। সে আমাকে তাড়িয়ে এই জায়গা দখল নিতে হামলা ভাঙচুর করেছে।

অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম দোকান ভাঙচুরের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বাড়ির সামনে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করায় চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে। আমি নারায়ণগঞ্জ সওজ কর্তৃপক্ষ ও থানায় লিখিত অভিযোগ করি জমি দখলমুক্ত করতে। পুলিশ একাধিকবার তদন্ত করেছে। সওজ কর্তপক্ষ দখলকারিকে নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু ফেরদৌস প্রভাবখাটিয়ে সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণ করে মোটা অংকের অগ্রিম ও মাসিক ভাড়ায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সওজের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত জানান, সরকারি জমিতে কোন স্থাপনা থাকতে পারবেনা। তদন্ত করে দ্রুতই ব্যবস্থা নিব। যেহেতেু সরকারি জমি তাই থানার ওসিকে বলে দিব তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।