সিদ্ধিরগঞ্জে জমি নিয়ে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত ২০

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে জমি নিয়ে থানা আওয়ামীলীগ নেতা আলী হোসেন আলা ও থানা ছাত্রদল নেতা রাকিবর রহমান সাগরগ্রুপের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাতকাল রবিবার দুপুর ১২ টার দিকে কদমতলী নয়াপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় আলী হোসেন আলার সন্ত্রাসী বাহিনী জমি দখল করতে গেলে সাগর গ্রুপ বাধা প্রদান করলে এঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সাগর গ্রুপের ৪ জন গুরুতর।
আহত রাকিবুর রহমান সাগর জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক আলী হোসেন আলার সঙ্গে কদমতলী এলাকায় ২২ শতাংশ জমি নিয়ে তাদের বিরোধ চলছে। কাউন্সিলর আলা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এই জমি দখল করতে দীর্ঘদিন ধরে পাঁয়তারা করে আসছে। তাই জমি রক্ষার্থে আমার মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ জজ আদালতে মামলা করেন। যার নং ১৫২/০৮। আদালত জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যার সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। তার পরও গত শনিবার ওই জমিতি ড্রেজার লাগিয়ে বালু ভরাট কাজ শুরু করে কাউন্সিলরের লোকজন। খবর পেয়ে আমরা বাঁধা দিতে গেলে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি দেয়। তখন থানায় গিয়ে জিডি করি। পরে থানার ওসি তদন্ত ইসতিয়াক রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়।
সাগরের অভিযোগ, পুলিশ বালু ভরাট কাজ বন্ধ করার পর রবিবার সকালে কাউন্সিলর আলার নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নালিশা জমিতে আবার বালু ভরাট কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে বাঁধা প্রদান করতে গেলে কাউন্সিলরের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের উপর হামলা চালায়। তারা ধাঁড়ালো অস্ত্র দিয়ে আমিসহ ১০ জনকে মারধর করে। তাদের মধ্যে মো: মানিক, মো: কামাল হোসেন ও মানিক হোসেনের মাথায় আঘাত করে। তাদের অবস্থা গুরুতর। তাদের নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সংঘর্ষে আলা গ্রুপের হারুন অর রশিদ, মো: মোল্লা, আব্দুল জলিল, নূরুল ইসলাম প্রধান, মোতালেব হোসেন, মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজন ও তুহিনসহ ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর আলী হোসেন আলার সঙ্গে কথা হলে তিনি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাগরের লোকজন রাতের শুক্রবার দিবাগত রাতে গোপনের আদালতের নিষেধাজ্ঞা সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। আমি আমার ক্রয় করা জমিতে বালু ভরাট করতে গেলে সাগরের লোকজন হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারামারি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মারামারি হয়েছে। এ বিষয়ে কেহ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।