সিদ্ধিারগঞ্জের সেই কারখানায় আবার অভিযান : শতকোটি টাকার নকল প্রসাধনী জব্দ মালিকসহ আটক-৭

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সেই মুনস্টার মার্কেটিং কারখানায় আবার অভিযান চালিয়ে অন্তত শতকোটি টাকা মূল্যের নকল প্রসাধনী ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী জব্দ এবং কারখানা মালিকসহ ৭ জনকে আটক করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। সীলগালা করা হয়েছে কারখানাটি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত র‌্যাব-৩ ও বিএসটিআই‘র কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
আটকরা হলো-কারখানা মালিক মো: বেলায়েত হোসেন, অপারেটর মো: মাঈনুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, সোহাগ, সিরাজুল ইসলাম, রাজিব জোনায়েদ ও বিক্রয় প্রতিনিধি কাউসার।
র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি, শিমরাইল এলাকায় মুনষ্টার মার্কেটিং (প্রাঃ) লিমিটেড কারাখানার মালিক বেলায়েত হোসেন র্দীঘদিন ধরে সরকারি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিএসটিআই‘র অনুমোদন ছাড়াই কারখানায় বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী উৎপাদন করে এদেশে বাজারজাত করে আসছেন। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চকবাজারসহ বিভিন্ন ছোট বড় শপিংমলের প্রসাধনীর দোকানে এসব নকলপন্য সরবরাহ করে মানুষের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। মেয়াদহীন কেমিক্যাল দ্বারা তৈরি এসব নকল প্রসাধনী ব্যবহার করা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাতœক ক্ষতিক্ষর। অভিযান চালানোর পর দেখা গেছে, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনিসিয়া, ইউকে, ইউএসএ, থাইলেন্ড ও ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নামিদামি কোম্পানির তৈরি ফগ, সিগনেচার, হোভোগল্ড, কার্টন লিমা, ব্লুলেডি, জ্যাসমিন, গেমবটি, মিলিনিয়াম, কোবরা, ম্যাক্স, রয়েলমেরগিসহ ২০ থেকে ৩০ ধরণের প্রসাধনী অবিকল নকল করা হচ্ছে কারাখানাটিতে। এসব প্রসাদনীর সাথে মিথানন নামের নিষিদ্ধ এলকোহল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক। এছাড়াও একারখানায় এলেডি, সনি, প্যানাসনিক, এলজিসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের টিভি নকল করে প্রতারনামূলক ভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে। কারখানার গোডাউনে জব্দকৃত এসব প্রণ্যের আনুমানিক মূল্য ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা হবে। কারখানা মালিকসহ আটকদের বিরুদ্ধে ৭৪ বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
অভিযানের সময় কারখানা মালিক বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কারখানার গোডাউনে মজুদকৃত পণ্যসামগ্রীর মূল্য ১২০ কোটি টাকা হবে। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে অভিযানের সময় ম্যাজিস্ট্রেটকে বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
উল্লেখ্য, এর আগেও এই কারখানায় দুইবার অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত বছর নারাণণগঞ্জ জেলার সাবেক পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৭০ কোটি টাকা মূল্যের নকল প্রসাধনী ও নকল স্টিকার লাগানো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টিভি জব্দ করা হয়েছিল। আটক করা হয়েছিল ৮ জনকে। তারও আগে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সমপরিমাণ পণ্যসাগ্রী জব্ধ করেছিল। প্রতিটি অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত গণ্যমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছে কারখানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। উৎপাদিত সকল পণ্যই নকল। অথচ বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে এই কারখানাটি চলে আসছে। বারবার অভিযান হলেও রহস্যজনক কারণে কারখানা বন্ধ হচ্ছেনা। এতে দেশের বাজারে এসব নকল ইলেক্টনিক্স ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রসাধনী ছড়িয়ে পড়েছে ব্যপক হারে। আসল ভেবে এসব নকল পণ্য কিনে ক্রেতারা হচ্ছেন প্রতারিত।