দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত, কারণ উদঘাটনের ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে হুমায়ন (৩৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চাঁদপুরগামী বোগদাদিয়া-১৩ ও শরীয়তপুর থেকে ঢাকাগামী মানিক-৪ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে যাত্রীবাহি দুটি লঞ্চের মখোমুখি সংঘর্ষের কারণ উদঘাটনের জন্য বিআইডবিøউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ন-পরিচালক সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।আগামী তিন কার্য্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিআইডবিøউটিএ সদরঘাট নদী-বন্দরের যুগ্ন-পরিচালক আরিফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হুমায়ন বন্দুকছি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর এলাকার আব্দুল হাই বন্দুকছির ছেলে।
নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোস্তাফিক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের মধ্যবর্তী চর কিশোরগঞ্জের কাছে ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর মোহনায় এই দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ঘন কুয়াশার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আপন দুই বোন রোজিনা (৩০) ও সোনিয়া (২৬), সোনা মিয়া (৪০), বিল্লাল হাওলাদার (৩৩), মামুন (৪০) বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।
আহত রোজিনার ভাই মো. সোহেল জানান, তার দুই বোন রোজিনা ও সোনিয়া ফরিদপুর থেকে লঞ্চযোগে ফিরছিল। তারা এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে। রোজিনার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সোনিয়ার এক পা ভেঙে গেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মো. আব্দুল খান বলেন, শুক্রবার রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ঢামেকে নয়জন ভর্তি হন। আহতদের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোজিনাসহ মোট পাঁচজনকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকিদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ বিআইডবিøটিএ’র ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে। পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি নৌ- পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।