মামুন হত্যার সাতদিনেও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ অভিযোগ পরিবারের

মো. আকবর হোসেন : মতলব উত্তর সন্তোষপুরার কালিবাজার এলাকায় গজারিয়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রবাসি মামুনকে স্থানীয় বালুসন্ত্রাসীরা কোপিয়ে হত্যা করেছে । হত্যার সাতদিন অতিবাহিত হলেও হত্যার মামলা নিচ্ছে না মতলব উওর থানা পুলিশ অভিযোগ নিহত মামুনের পরিবারের । মামুনের হত্যার বিচারের আশায় বিভিন্ন নেতা ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে কোন সুফল পাচ্ছে না।নিহত মামুনের পিতা আওয়ামীলীগে নেতা মুহাম্মদ আলী ও তার পরিবার ।

গত ৩রা জুলাই শনিবারে মতলবের উত্তর বাগানবাড়ী ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের কালিবাজার এলাকায় দুপুর ১টায় দুর্বৃত্তরা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে মামুন বেপারীকে হত্যা করে।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার গোয়াগাছা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ জামালপুর গ্রামে মামুন বেপারী (৩৫)। পরিবারের ৬ ভাই বোনদের মধ্যে মামুন বেপারী সবার বড়। স্ত্রী সনিয়া ও দুই বৎসরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পিতা মোহাম্মদ আলী বেপারী বর্তমানে গোয়াগাছা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার নিজ এলাকায় তিনি অধিক জনপ্রিয়।

স্থানীয় লোকজন ও পারিবারিক সুত্রে জানা যায়,বাগানবাড়ী ইউনিয়নের তালতলী গ্রামের মেম্বার বালু সন্ত্রাসী নজরুল গত শনিবার দুপুরে সন্তোষপুর গ্রামের কালিবাজার এলাকায় রিপন নামের এক ব্যাক্তির মাধ্যমে বাসা থেকে মামুনকে ডেকে নিয়ে যায়। কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই নজরুল মেম্বার ও তার ভাইসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মামুনকে আঘাত করে, ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মামুনের মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলথেকে পালিয়ে যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মামুনের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে মামুনের লাশ নিয়ে আসে ও একটি বালিবাহী বাল্কহেড জব্দ করে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মামুন বেপারী একজন প্রবাসী ছিলেন। দুবাইতে প্রায় ১৪ বৎসর চাকুরী করেছেন। করোনা মহামারী শুরু হওয়ার আগে ছুটিতে তিনি দেশে আসেন এবং পরবর্তীতে পুরোদেশ লকডাউন হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি তার কর্মস্থল দুবাইতে ফিরে না যেতে পারেনি। ফলে তিনি থেমে যাননি, নিজেকে গড়তে চেয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসাী হিসেবে। তাই তার নিজ এলাাকায় শুরু করেছিলেন নদীতে মাছের ঘের তৈরি করে মাছ ধরার কাজ ও স্থানীয় পর্যায়ে বালুর ব্যবসা। মামুনের পরিবারে বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই বৎসরের একটি পুত্র সন্তান নিয়ে বেশ ভাল ভাবেই চলছিল তাদের সাজানো গোছানো সংসার। এই বালুর ব্যবসাই মামুনের জীবনে কাল হয়ে দাড়ায়। একটি হত্যাকান্ডেই থেমে যায় সবকিছু। ছোট্ট শিশুটির জীবনে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। প্রতিদিনই প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে বাবার আদরের ছোট্ট শিশুটি, বাবা কখন আসবে, কখন বাসায় ফিরবে, একটু বাবার আদর ও ভালবাসা পাওয়ার অপেক্ষায়।

এদিকে মামুনের স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন জানায়, আমরা গত এক সপ্তাহ যাবত থানায় থানায় দৌড়াদোড়ি করি। থানা ওসি গড়িমসির কারণে এখনো পর্যন্ত মামলা নেয়নি, কারণ এই হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। বর্তমান সরকারের মতলব দুই আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন সাহেবের লোকজন। এই কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিচ্ছে না পুলিশ, উল্টো মামুনকে চাঁদাবাজ বানিয়ে জড়ানো হয়েছে বিভিন্ন মামলায়। নিহত পরিবারের অভিযোগের সুত্র ধরে গজারিয়া থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদেরকে জানান, মামুন হত্যার ঘটনাটি তার থানার আওতার বাহিরে সংঘটিত হয়েছে, যদিও সে আমার থানা এলাকার বাসিন্দা কিন্তু হত্যাকান্ডটি উত্তর মতলব থানার আওতাধীন বিধায় গজারিয়া থানায় মামলা রুজু করা সম্ভব হয় নাই।

মামুন হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে ফুসে উঠছে এলাকাবাসী। পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর দাবি মামুন হাত্যাকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে থানায় মামলা নিয়ে মামুন হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষিদের বিচারের সম্মূখীন করে উপযোক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা।

এই বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কামাল বলেন, মেঘনা নদীতে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমার থানায় নৌ পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে এবং তারাই এই মামলাটি তদন্ত করছে। এই মামলায় কেন পরিবারের কাউকে বাদী করা হল না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেলতলি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িরর ইনচার্জ শহিদুল ইসলামকে। যেহেতু নদী সংক্রান্ত সকল ঘটনাবলী নৌ পুলিশের দায়িত্বে, তাড়াই এই বিষয়ে ভাল বলতে পারবে, তাদের সাথে যোগযোগ করুন।