প্রেমিকার সঙ্গে অভিমানে সৌদি প্রবাসী যুবকের আত্মহত্যা

কামরুজ্জামান (শাওন ): প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে সৌদি প্রবাসী নূর হোসেন(২৫) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছে।২ মে (রবিবার) সকাল ৮ টায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের এসকান-১ এলাকায় গলাতে ফাঁস দিয়ে ওই যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র রমজান মাসের সকালে নূর হোসেন নামের ওই যুবকের আকস্মিক আত্মহত্যায় শোক বিহ্বল হয়ে পড়েছে রিয়াদের পুরো এসকান এলাকা।

নিহতের সেজ ভাই, খোকনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রতিদিনের মত স্বাভাবিকভাবেই দিনের শুরু করেন তারা। আত্মহত্যার কোন লক্ষণই ছোট ভাই নূর হোসেনের মধ্যে দেখা যায় নি। দুই ভাই একই রুমে পাশাপাশি থাকেন। কাজও করেন একই কোম্পানিতে। তার আচরণ ছিল স্বাভাবিক। তবে, একটি মেয়ের সঙ্গে প্রায়শই ফোনালাপ হতো বলে জানান তিনি। মেয়েটির সঙ্গে ঝগড়ার রেশ ধরে আকস্মিক এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনার দিনের কথা উল্লেখ করে খোকন জানান, অন্য দিনের মতোই সেহরী খেয়ে ভোর চারটার দিকে বাসা থেকে বের হন তারা। রমজান মানে কোম্পানির শিডিউল অনুযায়ী সেহরীর পর, ভোর ৪ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করতে হয়। রোজার জন্য বিকেলে কোন কাজ থাকে না। ঘটনার দিনও দুই ভাই কোম্পানির গাড়িযোগে কাজে বের হন। খোকনের কাজের এরিয়া আগে হওয়ায় তিনি আগে নেমে যান। কাজের একপর্যায়ে তার ছোট ভাই নূর হোসেনের কর্মস্থল থেকে ফোন আসে। ফোনে তার ভাইর সহকর্মীরা জানান, তার ভাইর দূর্ঘটনা হয়েছে।

খোকন আরো জানান, শুরুতে তাকে বলা হয়নি তার ভাই আত্মহত্যা করেছে। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকে পারিবারিক কোন সমস্যা ছিল কিনা তার ভাইর। খোকন এ প্রশ্নে তখন জানান, তারা দুই ভাই একসাথেই থাকত, কোন সমস্যা ছিল না। পরবর্তীতে তাকে জানানো হয় তার ভাই গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

খোকন জানতেন না তার ছোট ভাইর কোন মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে বাড়ি থেকে নিহত নূর হোসেনের ভাবীদের থেকে জানা যায় এই প্রেমের কথা। এছাড়াও নিহতের মোবাইল থেকে ঐ প্রেমিকার একাধিক ছবি পাওয়া যায়। জানা যায়, ঐ প্রেমিকার নাম হালিমা। মেয়ের বাড়ি কুমিল্লা।

নূর হোসেনের বড় ভাই জানান, লাশ এখনো হাসপাতালে পড়ে রয়েছে। তিনি কি করবেন এখনো বুঝতে পারছেন না। লাশ আদৌ দেশে পাঠানো যাবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছেন সংশয়ে।