স্টাফ রিপোর্টার :
সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিতর্কিত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্রঁ দেবনাথ স্বীকার করলেন দালাল ছাড়া ভূমি অফিস চলে না।
মঙ্গবার (৩১ ই মার্চ) সকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা স্বীকার করেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহক সেবীদের বিশাল এক লাইন হয়ে আছে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস। বিতর্কিত এ ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইল থাকাকালীন সময়ে ঘুষ বানিজ্য ও গ্রাহক হয়রানি করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।
গোদনাইল এলাকায় খোজ-খবর নিলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথের পদায়ন করায় এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী জানান, বিতর্কিত ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ যোগদান করার পর থেকে মানুষকে সহযোগিতা না করে বিভিন্ন কৌশলে হয়রানি করছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে একটি দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দালাদের মাধ্যমে বেশিরভাগ নামজারীসহ ইত্যাদি কাজ হয়ে থাকে। দালালদের চাহিদা মোতাবেক অর্থ দিয়ে কাজ করে নিয়ে আসতে হয়। সরাসরি ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথের কাছে কাজ করাতে গেছে বিভিন্ন ভূল ধরে সেই কাজ আর করাতে পারিনা। তাই দালালের মাধ্যেম মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে বাধ্য হই।
তারা আরও বলেন, দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ গোদনাইল থাকাকালীন সময়ে অনেক ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু দুলালের কিছুই হয়নি। তাই আমরা জানি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও তার কিছু হবেনা। আমরা সিদ্ধিরগঞ্জবাসী চাই দুলালের মত চিহ্নিত ঘুষখোর বদলি করে যাচাই করে ভালো একজন ভূমি কর্মকর্তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে নিয়োগ দেওয়া হোক এবং ভূমি মন্ত্রনালয় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী পূর্বে ও বতর্মানে দুলালের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আছে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এদিকে গোদনাইলের বাসিন্দারা জানান, ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ গোদনাইল ভূমি অফিসে থাকাকালীন সময়ে এ এলাকার মানুষকে হয়রানি ও ঘুষ বানিজ্য করে ব্যাপক অত্যাচার করেছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলো মানুষ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ ভূমি কর্মকর্তা ছিলেন ফতুল্লার বক্তবলী ভূমি অফিসে। তার হয়রানি ও ঘুষ বানিজ্যে শিকার ছিলেন ওই এলাকার মানুষ। পরে এলাকাবাসী তাকে ধাওয়া করে ও তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এলাকাবাসী। পরে সেখান থেকে ভূমি কর্মকর্তা দুলালকে সরিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ। গোদনাইল ভূমি অফিস থেকে দুলালের বদলী খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রসাশক মোঃ রায়হান কবির বলেন, নারায়ণগঞ্জের কোন ভূমি অফিসে কোন দালাল থাকবেনা। যদি কোন ভূমি কর্মকর্তারা দালালদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় তাহলে সেই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং নারায়ণগঞ্জের সকল ভূমি অফিস দালাল মুক্ত থাকবে।
প্রতিনিধির নাম 








